
মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ২৬ তম আসরের শেষ মুহূর্তে সব স্টলে সব পণ্যের ওপর মূল্য ছাড়ের ছড়াছড়ি। ছাড় দেয়া পছন্দের পণ্য কেনার জন্য উপচে পড়া ভিড় জমেছে স্টলগুলোতে।
মেলার শেষেরর দিকে নিত্য নতুন অফার নিয়ে হাজির হচ্ছে স্টল আর প্যাভিলিয়নগুলো। মেলা থেকে পণ্য কিনলেই মিলছে ক্যাশ ব্যাকের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সুযোগ। সঙ্গে উপহারতো আছেই। বেশি অফার দেওয়া হচ্ছে ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যে।
এছাড়া বিকাশ অ্যাপে পেমেন্ট করে পাওয়া যাচ্ছে পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত নিশ্চিত ক্যাশব্যাক। অল্পদামে পণ্য সামগ্রী কিনতে পেরে মহা খুশি মেলায় আগত দর্শনার্থীরা। স্টলে পণ্য সামগ্রী বিক্রি বেড়ে যাওয়া খুশি দোকানদার ও মালিকরা। মেলার ৩০ তম দিন রোববার মেলায় ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র।
ঘুরে দেখা যায়, করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করে মেলায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে দর্শনার্থীদের। স্থায়ী ভেন্যু পূৃর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৬ আসরে ৩০ তম দিনে অন্যান্য দিনের তুলনায় স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে নিজেদের পছন্দের পণ্য সামগ্রী কিনতে উপচে পড়া ভিড়।
শেষ মুহুর্তে মেলায় ব্লেজার, স্যুট, কটি, থ্রি-পিস, টু-পিস, ওড়না, স্কার্ফ কিনলে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন তাঁতের শাড়ি দুইটি কিনলে একটি ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছে বসুন্ধরা নুডলস, লাচ্ছা সেমাই, ম্যাকরনিসহ বিভিন্ন খাবারের ওপর।
ব্রাদার্স ফার্নিচার, নাদিয়া ফার্নিচার, পারটেক্স ফার্নিচার, নাভানা ফার্নিচার, আক্তার ফার্নিচার, ডেল্টা ফার্নিচার দিচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। যেকোনো ফার্নিচার কিনলেই এ ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া মেলায় বুকিং দিলে রাজধানীর মধ্যে পাওয়া যাবে ফ্রি হোম ডেলিভারি।
ঢাকার বাইরে নামমাত্র চার্জে নিজস্ব শোরুম পর্যন্ত মালামাল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ইলেকট্রনিক্স পণ্য কিনলে দেয়া হচ্ছে ১৫ শতাংশ ছাড়। সঙ্গে পাওয়া যাবে ব্যাগভর্তি উপহার। তাছাড়া লটারির মাধ্যমে ক্রেতা পাবেন ঢাকা-মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড কিংবা ঢাকা-কক্সবাজার এয়ার টিকিট ফ্রি।
বিভিন্ন ক্রোকারিজের স্টলে রয়ে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে দেয়া হচ্ছে লোভনীয় অফার, একটি কিনলে একটি ফ্রি, একটি কিনলে ১০টিসহ আরো অনেক অফারের কথা। এমনকি বিকাশ অ্যাপে মূল্য পরিশোধ করলে ৫ শতাংশ ক্যাশব্যাক পাওয়া যাবে। তবে অনেক স্টল গুলোতে নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মিনিস্টার প্যাভিলিয়নের ডিভিশনাল ম্যানেজার তৈবুর রহমান বলেন, প্রথমদিকে বেচাকেনা তেমন ভাল ছিলনা। আমাদের এখানে শেষ মুহূর্তে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়া হচ্ছে পণ্যের ওপর। আশারুপ বেচাকেনা হচ্ছে।
এশিয়া প্যাসিফিক জোনের দোকানদার রুমান বলেন, পণ্যের ছাড় দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ। শেষের দিকে ক্রেতা সমাগম বেশ বেড়েছে, বেচাকেনাও বেশ। তবে সময় বৃদ্ধি না করায় এবার লাভের মুখ দেখা খুব কষ্ট হবে।
আরএফএল প্যাভিলিয়নের দোকানদার সিহাব হাসান বলেন, প্রথমদিকে পণ্যের ওপর ১০% ছাড় ছিল। এক সপ্তাহ ধরে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। সেজন্য আমাদের প্যাভিলিয়নে লোক সমাগমও বেড়েছে। বেচাকেনাও বেড়েছে।