শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাণীনগরে প্রশাসনের তদারকিতেও মিলছে না পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল; অকটেন/পেট্রোল এখন সোনার হরিণ

নওগাঁ সংবাদদাতা »

নওগাঁর রাণীনগরে প্রশাসনের কঠোর তদারকির মধ্যেও জ্বালানি তেল যেন সাধারণ মানুষের কাছে ‘সোনার হরিণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার ৫টি ফিলিং স্টেশনের অধিকাংশতেই তেলের মজুদ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল আরোহীসহ সাধারণ গ্রাহকরা।

ভোগান্তির চিত্র: 

সরজমিনে উপজেলার আবাদপুকুর কুতকুতী তলায় অবস্থিত মেসার্স নিউ পল্লী স্মৃতি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে ভোর থেকে কয়েকশ মোটরসাইকেল আরোহী দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। ডিপো থেকে তেল আসবে এবং সরবরাহ শুরু হবে—এমন আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকের কপালে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। বর্তমানে ২০০ টাকার তেল পাওয়াও যেন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ:

তেল সংগ্রহ করতে আসা ভুক্তভোগী মো. রুবেল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিভিন্ন পাম্প ঘুরে এখানে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। সরকারের উচিত দ্রুত এই সংকট দূর করা, অন্যথায় তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া। আমরা বিকল্প হিসেবে ঘোড়া কিনে চলাফেরা করব, তাও এই অনিশ্চয়তা সহ্য হয় না।”

অনেক সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পেরে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সংকটকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে তেল মজুত করতে না পারে, সেজন্য গত শনিবার থেকে উপজেলাজুড়ে অভিযান ও তদারকি শুরু হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান জানান, “দেশজুড়েই তেলের কিছুটা সংকট চলছে। তবে আমরা নিয়মিত ফিলিং স্টেশনগুলোর বরাদ্দকৃত তেল পর্যবেক্ষণ করছি। বরাদ্দ অনুযায়ী তেল সরবরাহ না করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে যাদের হেলমেট ও গাড়ির কাগজপত্র সঠিক আছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।”

ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, দেশজুড়ে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে যদি সঠিক নজরদারি থাকতো, তবে কৃত্রিম সংকটের এই তীব্রতা হয়তো জনজীবনকে এতটা বিপর্যস্ত করতে পারতো না।

 

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/রায়হান

শেয়ার করুন »

Comments are closed.