বান্দরবানের আলীকদমে সেনাবাহিনীর সফল অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। সাধারণ জনগণের অসীম সাহসিকতা এবং সেনাবাহিনীর তড়িৎ হস্তক্ষেপে বড় ধরনের একটি চাঁদাবাজির পরিকল্পনা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়।
গত ০২ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২১:৩০ ঘটিকায় লামার লুলাইং এলাকার মারাইত্তা বাজারে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর তিন সদস্য চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র অবস্থায় উপস্থিত হয়। সন্ত্রাসীদের এই তৎপরতা স্থানীয় সচেতন জনগণের নজরে এলে তারা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে এগিয়ে যান। সেনাবাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের অগাধ আস্থা ও নির্ভরতা থাকায় তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মোং পেং মুরং নামক এক সন্ত্রাসীকে হাতেনাতে আটক করে নিকটস্থ লুলাইং আর্মি ক্যাম্পে হস্তান্তর করেন।
আটক মোং পেং মুরং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে চাঁদাবাজির চেষ্টার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি আভিযানিক দল মারাইত্তা বাজার সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালায়। উক্ত অভিযানে মাটির নিচে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ১টি অত্যাধুনিক পিস্তল (MA-5 MK-2) এবং ১৫ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
একই দিনে জনৈক তং পং মোরং (আটক মোং পেং মুরং-এর ভাই) স্থানীয় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে গিয়ে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর অপর একটি আভিযানিক দল গজালিয়া এলাকায় তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বিধায় মুচলেকা গ্রহণ সাপেক্ষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আলীকদম জোনের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
জাগো সংবাদ/আরাফাত/জয়নাল
সম্পাদক: লিয়াকত আলী
News Bangladesh-a Sister concern of M/S Traders