
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বান্দরবান জেলার আলীকদম ও লামা উপজেলায় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম সেনা জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ব্যাপক ও সুসমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আলীকদম ও লামা উপজেলা নির্বাচন অফিস হতে ব্যালেট বক্স, ব্যালট পেপারসহ ভোটগ্রহণে প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্র সমূহে নিরাপদে প্রেরণ করা হয়েছে। পুরো পরিবহন প্রক্রিয়ায় আলীকদম সেনা জোনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করে। বহিরাগত হস্তক্ষেপ, নাশকতা কিংবা যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
বিশেষত দুর্গম পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোটকেন্দ্র সমূহে নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে দিতে কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও যোগাযোগ-দুরূহ এলাকায় অতিরিক্ত সশস্ত্র নিরাপত্তা, অগ্রবর্তী টহল এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে সরঞ্জাম পরিবহন সম্পন্ন করা হয়।যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আলীকদম সেনা জোনের দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল টহল দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সর্বদা স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
আলীকদম জোনের আওতাধীন আলীকদম ও লামা উপজেলায় সর্বমোট ৬২ ভোটকেন্দ্রকে নিরাপত্তার চাঁদরে ঘিরে ফেলা হয়েছে। ভোটারদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আলীকদম ও লামা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, জনবহুল এলাকা, বাজার, প্রবেশপথ এবং স্পর্শকাতর স্থানে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক নিরাপত্তা দল মোতায়েনের পাশাপাশি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক টহল প্রদান করছে। সম্ভাব্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সম্ভাব্য সহিংসতা, নাশকতা, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় গঠন করে বহিস্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে ভোটারগণ ভয়ভীতি ও চাপমুক্ত পরিবেশে তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
ভোটগ্রহণের পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ চলাকালীন এবং পরবর্তী পর্যায় পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আলীকদম সেনা জোনের তত্ত্বাবধানে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ প্রক্রিয়াকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজনগ্রাহ্য করতে সংশ্লিষ্ট সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ জনগণকে আইনানুগ আচরণ বজায় রাখা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
আলীকদম সেনা জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে আলীকদম ও লামা উপজেলায় বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠী ও ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে আস্থা, স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ দৃশ্যমান হয়েছে। স্থানীয় জনগণ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, এ ধরনের পেশাদার, নিরপেক্ষ ও দৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে তারা এধরনের দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণ মুখী নিরাপত্তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
বিশেষ করে আলীকদমে সেনাজোনের এধরনের তৎপরতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা জাতীয় স্বার্থ, সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাগো সংবাদ/আরাফাত/জয়নাল