
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় অবৈধভাবে ভোটের সিল তৈরি ও সংরক্ষণের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অপর অভিযুক্ত জামায়াত নেতা পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পুরোনো আদালত রোড এলাকার ‘মারইয়াম প্রিন্টার্স’-এ অভিযান চালিয়ে ছয়টি অবৈধভাবে প্রস্তুতকৃত ভোটের সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ সময় প্রিন্টার্সের মালিক ও টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা সোহেল রানা (৪০)কে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা পুলিশকে জানান, তিনি অর্ডার অনুযায়ী সিলগুলো তৈরি করেছেন। তবে কারা অর্ডার দিয়েছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেননি।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৌরভ হোসেন শরীফ (৩৪) এবং সোহেল রানাকে আসামি করে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। সোহেল রানা গ্রেপ্তার হলেও শরীফ এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর জেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিএনপি–জামায়াত জোটের লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এটি পরিকল্পিত ভোট-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অংশ হতে পারে।” তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী লক্ষ্মীপুর জেলা আমির এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আটক সোহেল রানা দলের কোনো কর্মী নন। অভিযুক্ত সৌরভ হোসেন শরীফের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনকে সহযোগিতার কথাও জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার কর্মকর্তারা জানান, জব্দকৃত আলামতগুলো তদন্তের স্বার্থে হেফাজতে রাখা হয়েছে। আসামিদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জাগো সংবাদ/আরাফাত/জাকির