শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পোয়ামুহুরী সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প পরির্দশন করলেন সরকারের দুই উপদেষ্টা

বান্দরবান প্রতিনিধি »

পাহাড়, কুয়াশা আর সীমান্ত পিলার—এই তিনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আজ কথা বলেছে উন্নয়ন। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্ত অঞ্চলে নির্মাণাধীন সীমান্ত সড়ক যেন আর শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং পাহাড়ি জনপদের সঙ্গে রাষ্ট্রের দৃশ্যমান সংযোগের প্রতীক হয়ে উঠছে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে আকাশপথে আর্মি এভিয়েশনের হেলিকপ্টারে করে মেনদনপাড়া আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোঃ ফাওজুল কবির খান। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির মাঝেই শুরু হয় সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের বাস্তব চিত্র দেখার সফর।

স্বল্প সময়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিরাপত্তা স্কটসহ পাজারো যানযোগে উপদেষ্টাদ্বয় পৌঁছান পোয়ামুহুরী ইসিবি প্রকল্প ক্যাম্পে। সীমান্ত পিলার–৫৭ এলাকায় দাঁড়িয়ে তারা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন পাহাড় কেটে, ঢাল সামলে, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে চলা সড়ক নির্মাণের কাজ।

৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রকল্পে কীভাবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হচ্ছে, কীভাবে নিরাপত্তা ও মান বজায় রেখে এগোচ্ছে নির্মাণকাজ—সবকিছুই উঠে আসে উপদেষ্টাদের সামনে।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টারা শুধু অগ্রগতি নয়, নির্মাণমান ও সময়ানুবর্তিতাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় তারা স্পষ্ট করে জানান, এই সড়ক কেবল যান চলাচলের জন্য নয়, এটি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা বদলের পথ।

দুপুরের খাবারের টেবিলেও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল সীমান্ত সড়ক। পোয়ামুহুরী ইসিবি প্রকল্প ক্যাম্পের অফিসার মেসে মধ্যাহ্নভোজ শেষে ক্যাম্পের গোলঘরে হয় মতবিনিময় ও কৌশলগত আলোচনা। সেখানে উঠে আসে এই সড়ক চালু হলে দুর্গম পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটা সহজ হবে।

উপদেষ্টারা বলেন, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ মানে শুধু পাহাড়ে রাস্তা নয়; এটি উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও আস্থার একটি শক্ত ভিত্তি। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ দেশের মূল স্রোতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হবে এবং দুর্গম এলাকাগুলোতে রাষ্ট্রীয় উপস্থিতি হবে আরও দৃশ্যমান।

দুপুর গড়াতেই সফর শেষ করে উপদেষ্টাদ্বয় মেনদনপাড়া আর্মি ক্যাম্প হয়ে হেলিকপ্টারে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পাহাড়ে তখনও চলছিল সড়ক নির্মাণের কাজ—নীরবে, কিন্তু দৃঢ় প্রত্যয়ে।

 

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/জয়নাল

শেয়ার করুন »

Comments are closed.