শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিখোঁজের পর হত্যাকাণ্ড: ডিবি পুলিশের অভিযানে এক আসামি গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেল উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক »

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন হাজীরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আলাদাদপুর এলাকার বাসিন্দা ফজলে রাব্বি ওরফে বাবু (২১) নিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং নিহতের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. তারিখে ফজলে রাব্বি বাবু নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার পিতা বেল্লাল হোসেন ১৮ জানুয়ারি চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন (জিডি নং–৭৩১)।

ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, পিপিএম-সেবা মহোদয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়নে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল মাঠে নামে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়।

তদন্তের একপর্যায়ে মোঃ শাহেদ (২৬) ও মাহফুজুর রহমান ওরফে কানা মাহফুজকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে চলে যায়। ডিবি পুলিশের টানা অভিযানে ঢাকা জেলার দোহার এলাকা থেকে মোঃ শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে স্থানীয়দের সহায়তায় দিঘির উত্তর পাশে জনৈক কিরনের টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ভেতর থেকে নিখোঁজ বাবুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ বিবরণ পাওয়া যায়।

আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ইয়াবা সংক্রান্ত টাকা পাওনা ও মোটরসাইকেল আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাবুকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গুম করা হয় এবং ভিকটিমের মোটরসাইকেল বিক্রি করা হয়। ডিবি পুলিশের অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মুগুর, আংশিক পোড়া বোতল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ওমর ফারুক ও রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে নিহতের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পলাতক অপর আসামি মাহফুজকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অদ্য ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. তারিখ লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ লাইন্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিং করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী, পিপিএম-সেবা। এ সময় জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ জনাব মোঃ সাহাদাত হোসেন টিটোসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/জাকির

শেয়ার করুন »

Comments are closed.