
বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে ৩১ বীর সেনাজোন, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ। যৌথ এই বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অভিযানের সময় একজন মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিএ-১০৮০৯ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলী তাওহীদ (জোনাল স্টাফ অফিসার, আলীকদম সেনাজোন) এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল এবং আলীকদম থানা পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজুর আলম এই অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে আলীকদম উপজেলার ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাগানপাড়া এলাকায় প্রথমে মোঃ হাবিবুল্লাহ (৪৩) এর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার বসতঘর থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এরপর একই এলাকা থেকে মানব পাচার মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি আরিফুল হক (৩৫)-কে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকেও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
একই অভিযানের সময় মোঃ জাফর (৩৭) নামের আরেক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলে বিপুল পরিমাণ মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে জাফর কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক আলীকদম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে, একই দিন সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে আলীকদম থানাধীন চৈক্ষ্যং কানা মেম্বার সেনা চেকপোস্টে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মোঃ রিয়াদ (২৮) নামের এক যুবককে ১০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকেও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান শেষে আটককৃত তিনজনকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আলীকদম থানায় হস্তান্তর করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিতভাবে এমন অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো মাদক কারবারি বা মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সেবনের প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছিল। যৌথ বাহিনীর এই তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতেও আলীকদম উপজেলায় মাদক, মানব পাচারসহ সকল ধরনের অপরাধ দমনে যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
জাগো সংবাদ/আরাফাত/জয়নাল