
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজা উপত্যকায় পৃথক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গাজার বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমাঞ্চলে একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন নিহত ও তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। একই শহরের পূর্বাঞ্চলে, যেখানে বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান রয়েছে, সেখানে পৃথক হামলায় আরও একজন নিহত হন।
উত্তর গাজার জাবালিয়ায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্কুলে চালানো হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর কাছে একটি তাঁবুতে হামলায় আরও একজন নিহত হন। এ ছাড়া গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় পৃথক হামলায় চারজন প্রাণ হারান। এসব ঘটনায় বৃহস্পতিবার মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১১ জনে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামাসের একটি ব্যর্থ রকেট উৎক্ষেপণের পরপরই তারা সংশ্লিষ্ট উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রকেটটি ইসরায়েলি ভূখণ্ডে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
ইসরায়েলি বাহিনী আরও অভিযোগ করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামাস দুইবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তবে রয়টার্স জানায়, হামাস ইসরায়েলের এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনও প্রথম ধাপেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ ধাপে বড় ধরনের সংঘর্ষ বন্ধ থাকলেও ইসরায়েল গাজার অর্ধেকেরও কম এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে। এর বিনিময়ে হামাস জীবিত জিম্মি ও নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর করেছে এবং ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দিয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজা থেকে ইসরায়েলের আরও সেনা প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত প্রশাসনের মাধ্যমে গাজা পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে।
জাগো সংবাদ/আরাফাত