বৃহঃস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পান চা-শ্রমিকেরা 

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি »

 

মৌলভীবাজারের জুড়ী এক বছরে জেলার বিভিন্ন চাবাগানে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে পাঁচ সহস্রাধিক মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে গ্রাম উন্নয়ন কার্যক্রম (গ্রাউক) প্রতিনিধি, জুড়ী, মৌলভীবাজার,

বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত চা-শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয় বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গ্রাম উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রাউক সংস্থাটি এক বছরে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন চাবাগানে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে পাঁচ সহস্রাধিক মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর দুপুরে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার রত্না চা-বাগানের হাসপাতালে স্থাপিত ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, রোগীরা নিবন্ধন সম্পন্ন করে লাইনে দাঁড়িয়েছেন একে একে তাঁদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ঔষুধ দেওয়া হয়। সেখানে রক্তের গ্রুপও পরীক্ষা করা হয়। চা শ্রমিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁরা অসুস্থ বোধ করলেই এই ক্যাম্পে ছুটে আসেন। চিকিৎসা ক্যাম্প থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন শ্রমিক মালতী মুন্ডা (৪০) আলাপকালে তিনি বলেন, বেশি সময় পাতা (চায়ের কুঁড়ি) তুললে বুক ধড়ফড় করে। শরীর দুর্বল লাগে, শক্তি পাই না। বাগানের হাসপাতালে তো বড় ডাক্তার থাকেন না। অসুস্থ হলে উপজেলার সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেতে হয়। দূরের পথ, টাকার ব্যবস্থাও করতে হয়। বাগানের হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ বড় ডাক্তার এসেছেন উনাকে দেখিয়েছি ডাক্তার প্রেশার মেপেছেন, পরীক্ষা করেছেন, কিছু ওষুধও পেয়েছি চাশ্রমিক জাহাজমনি খাড়িয়ার শরীরে খোসপাঁচড়া লেগেই থাকে। ঔষুধের দোকান থেকে মলম কিনে কিছুদিন ব্যবহার করেও সারেনি রোগ,এখানে চিকিৎসক তাঁর রক্ত পরীক্ষা করেন এরপর ঔষুধ দেন সংস্থাটি জানায়, সকাল নয়টার দিকে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হয় বেলা দুইটা পর্যন্ত চলে। প্রতিদিন দেড় শতাধিক রোগী চিকিৎসা নেন। মেডিকেল ক্যাম্পের চিকিৎসক সত্যজিৎ শর্মা জানান, চা-শ্রমিক নারী-পুরুষদের মধ্যে চর্মরোগ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। ২৫ ডিসেম্বর জুড়ীর রত্না চা-বাগানের হাসপাতালের অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে। এ ছাড়া অনেকের পুষ্টির অভাব, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা ও উচ্চ রক্তচাপ আছে। সেবাগ্রহীতাদের বেশির ভাগ শ্রমিক আগে রক্তের গ্রুপ জানতেন না। এখানে পরীক্ষা করে তা নির্ণয় করে দেওয়া হয়েছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান গ্রাউকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও স্কুলশিক্ষক অশোক রঞ্জন পাল বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনযাপনের কারণে নানা রোগব্যাধিতে ভোগেন চা-শ্রমিকেরা। অভাব- অনটনের কারণে অনেকেই চিকিৎসা নিতে পারেন না। এ অবস্থায় গ্রাউক সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়। ২০২৪ সাল থেকে তারা মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন চা- বাগানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা শুরু করে। এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি রোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার চোখের রোগীর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। গ্রাউক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। জুড়ী উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়। চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে বিভিন্ন প্রবাসী ব্যক্তি, ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, এমটিবি ফাউন্ডেশন এবং জুড়ীর নিউ পপুলার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার সহযোগিতা করে। রত্না চা-বাগানের ব্যবস্থাপক বশির উদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাব আছে। তবে এ বিষয়ে সচেতন করতে তাঁরা বিভিন্ন সময় পরামর্শ দেন। কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে চিকিৎসা করানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়।

 

 

জাগো সংবাদ/আরাফাত/ছায়েদ

শেয়ার করুন »

Comments are closed.