
জাগো সংবাদ ডেস্ক : রাজধানীর গুলশান নর্দায় চোর সন্দেহে আটকের পর মারধর করে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয় শাকিল (২৫) নামে এক যুবককে। দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ওই যুবক মারা গেছেন।
এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত মামলার দুই নম্বর আসামি বাড়িটির মালিকের ছেলে ইমরান হোসেন শুভকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এখনও পলাতক রয়েছে মামলার প্রধান আসামি বাড়ির কেয়ারটেকার।
গত ২৫ এপ্রিল রাত পৌনে ১০টার দিকে এই ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাত ১১ টার দিকে মারা যান ওই যুবক। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শাকিলের বাড়ি নেত্রকোনার সদর উপজেলার মোবারকপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আলেক। স্ত্রীসহ পরিবার নিয়ে গুলশান নর্দা এলাকায় থাকেন তিনি। পেশায় রাজমিস্ত্রীর সহযোগীসহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করতেন তিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাইয়ুম জানান, ২৫ এপ্রিল নর্দা সরকার বাড়ি ক-২১/২-জি নম্বর বাড়ির কেয়ারটেকার আমিনুল ইসলাম আমিন, বাড়ির মালিকের ছেলে ইমরান হোসেন শুভ, কয়েকজন রাজমিস্ত্রিসহ আরও ৫-৬ জন মিলে শাকিল নামে ওই যুবককে চোর সন্দেহে আটক করে। এরপর তার হাত-পা বেঁধে তাকে পেটায়। এরপর তাকে ভবনটির নয় তলার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করার এক পর্যায়ে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়। ঘটনার পর খবর পেয়ে স্বজনরাই তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসকরা আইসিইউ এর কথা বললে স্বজনরা তাকে ধানমন্ডির টুয়েন্টি সেভেন প্লাস নামে একটি হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন শনিবার রাত ১১টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এসআই জানান, ঘটনার পর ২৬ তারিখ গুলশান থানায় স্বজনরা হত্যার চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর দুই নম্বর আসামি বাড়িওয়ালার ছেলে ইমরান হোসেন শুভকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় প্রধান আসামি বাড়িটির কেয়ারটেকার আমিনুল ইসলাম আমিন এখনো পলাতক। তাকেসহ বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এক প্রশ্নের জবাবে এসআই কাইয়ুম জানান, যেই চুরির অভিযোগে শাকিলকে মারধরের পর ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে; এমন চুরির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।