
উচ্চ মাধ্যমিকের ইংরেজি প্রথম পত্রের একটি অধ্যায় রয়েছে বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের নিয়ে। সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করে তহুরা, মার্জিয়ারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিচ্ছেন। সেই সাফল্যের গল্প গুলো তরুণ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর এতে উচ্ছ্বসিত ময়মনসিংহের মানুষ। সাফল্য ধরে রাখতে কিশোরীদের পাশে থেকে সকল ধরণের সহযোগিতার কথাও জানিয়েছেন প্রশাসন।
কলসিন্দুর সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার ও আরিফ হোসেন বলেন, আমরা কেবল একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েই আপুদের গল্প পেলাম ইংরেজি বইয়ে। এর চেয়ে আর আনন্দের কি হতে পারে। আমরাও তাদের অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে চাই।
ফুটবলার তহুরা খাতুন বলেন, ‘এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছি। আমার গল্প আমি নিজেই বইয়ে পড়বো। এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীসহ সকলকে অভিনন্দন জানাই আমাদের বিষয়টি পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরায়।’
কলসিন্দুর সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন, বইটিতে এতো সুন্দর করে কিশোরী ফুটবলারদের খুঁটিনাটি তুলে ধরা হয়েছে, সত্যিই আমরা অভিভূত। একটার পর একটা সাফল্য পাচ্ছি আমরা। মেয়েদের সাফল্যের বিষয়গুলো আমাদেরও অনুপ্রাণিত করে।
কলসিন্দুর সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং নারী ফুটবল টিমের টিম ম্যানেজার মালা রানী সরকার বলেন, পাঠ্যপুস্তকে আমাদের মেয়েদের এতো বড় সাফল্য আসবে কোনদিন ভাবতে পারেনি। বিগত দেড় বছর ধরে তথ্য উপাত্ত নিয়ে কাজ করছিলেন অধ্যাপক গৌতম রায়। বিভিন্ন তথ্যের জন্য তিনি প্রায়ই আমাকে কল দিতেন। সরকারের কাছে আর আমাদের তেমন কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই। প্রত্যাশার চেয়ে আমরা অনেক বেশি পেয়েছি। সরকার প্রধান সবসময় সুস্থ থাকুক এই কামনা করি।
ডিসি মোহাম্মদ এনামূল হক বলেন, মেয়েরা অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে। যার বদৌলতে পাঠ্যপুস্তকে তাদের নিয়ে লেখা হয়েছে। মেয়েদের জন্য পাঁচ লাখ টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। যে কোনো প্রয়োজনে যেনো তারা টাকাটা খরচ করতে পারে।