
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, সরকার কঠোরভাবে বাজার মনিটর করছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ ভোজ্যতেল আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, গত দুই বছরের করোনাকালে উন্নত বিশ্বের কৃষকেরা আবাদ করেনি, মাঠে নামেনি, শ্রমিকেরা খনিতে নামেনি। আবার ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। এসবের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।
শনিবার সকালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, মোটা চালের দাম স্থিতিশীল আছে, সরু চালের দাম এখনও কিছুটা বেশি। আর ভোজ্যতেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক বেড়েছে। ভোজ্য তেল আমাদের আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। এ অবস্থায়, তেলের দাম কিছুটা না বাড়ালে কেউ আমদানি করবে বলে মনে হয় না।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি ২০১৪ সালের মতো দেশে আবার অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তারা মনে করছে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, বোমাবাজি করে, রেললাইন তুলে, গাড়িতে আগুন দিয়ে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে আবারও ক্ষমতায় আসবে। আমি মনে করি, এ দেশের জনগণ কোনোভাবেই তাদের এ অপচেষ্টা মেনে নেবে না।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি আন্দোলনে হাওয়া দিতে পারছে না, তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। ২০১৫ সাল থেকে তারা একদিনও হরতাল দিতে পারেনি। বাংলাদেশে আর কোনোদিন হরতাল হবে না। আন্দোলনের নামে গাড়িতে আগুন দিলে তাদেরকে চরম মূল্য দিতে হবে। ন্যায়ের পথে, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে তাদের আন্দোলন করতে হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে বর্তমান নির্বাচিত সরকার জনগণের জানমাল রক্ষায় কঠোর ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময়ই বাকা পথে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় এসেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কখনও বাকা পথে জনগণের সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় আসেনি। কাজেই আগামী দিনে বাংলাদেশে ষড়যন্ত্র করে কাউকে নির্বাচন বানচাল করতে দেয়া হবে না।
ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে হলে নির্বাচনে আসতে হবে। জনগণের সমর্থনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। জনগণ তাদেরকে নির্বাচিত করলে আমরা ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে তাদের স্বাগত জানাব।
বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণ, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক বিশ্বের চাপ এবং বিএনপি যখন বুঝতে পারবে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই- তখন তারা অবশ্যই নির্বাচনে আসবে।