
বিশ্ব একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইউক্রেনের দিকে- বিশেষ করে এর রাজধানী কিয়েভের দিকে। কিয়েভ কি দখলে নিয়ে নেবে রাশিয়া, নাকি বুক উঁচিয়ে প্রতিরোধ অব্যহত রাখবে ইউক্রেন বাহিনী- এমন একটি প্রশ্ন এখন বিশ্বের বহু মানুষের মনে।
ইতোমধ্যে কিয়েভে রুশ সেনারা প্রবেশ করেছে। রাস্তায় রাস্তায় দুই পক্ষের মধ্যে লড়াইয়ের খবর আসছে। আসছে হতাহতের খবরও।
কেবল স্থলপথে নয়, কিয়েভে ইউক্রেনের বাহিনীকে কোণঠাসা করতে আকাশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ছে রাশিয়া। এতে প্রাণহানী ঘটছে সাধারণ মানুষেরও।
এ পর্যন্ত ১৯৮ জন বেসামরিক ইউক্রেনীয় নিহত হয়েছেন বলে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি।
এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। আত্মসমর্পণ করবেন না। ইউক্রেনের বাহিনী রুশ সেনাদের প্রতিহত করতে সক্ষম হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকে সহায়তা আসতে শুরু করেছে। ফ্রান্স অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাতে শুরু করেছে। সহায়তায় এগিয়ে আসছে পোল্যান্ড ও তুরস্ক।
ইতোমধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় মেলিটোপল শহর নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দাবি করেছে।
জাতিসংঘ বলছে, যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ। তাদের অনেকে দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত হলেও অনেকে দেশ ছেড়ে প্রতিবেশি দেশগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে শনিবার বলা হয়, কিয়েভে রুশ সেনাদের অগ্রযাত্রার মধ্যে ইউক্রেনে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
কিয়েভে বোমা হামলার জেরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ আতঙ্কের মধ্যে বহু মানুষ বাঙ্কার ও ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছেন।
এ পরিস্থিতি পোল্যান্ড বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ রাশিয়ার সঙ্গে খেলবে না বলে জানিয়েছে। পোল্যান্ডের ফুটবল এসোসিয়েশন শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করে।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও রুশ সেনাদের আক্রমণের জেরে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে কিয়েভে। ইউক্রেনের রাজধানী শহরটি কি তাহলে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেলো?
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক উপদেষ্টা মিহাইলো পদোলিয়াক বলেন, ইউক্রেনের বাহিনী রুশ সেনাদের মোকাবেলায় শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছেন।