জয়পুরহাটে পরীকয়া প্রেমের জের ধরে মাইক্রোবাস চালক রহিম বাদশাকে (৩৫) গলাকেটে হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুর ইসলাম এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার দেওগ্রাম ডুগডুগির রহিম বাদশার স্ত্রী আকলিমা খাতুন (২৬), একই উপজেলার শালগ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে সেলিম মিয়া (৩২) ও গোপালপুর গ্রামের গোলাপ রহমানের ছেলে আইনুল ইসলাম (৩৫)। রায়ের সময় সেলিম মিয়া ও আইনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। স্ত্রী আকলিমা জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার দেওগ্রাম ডুগডুগির শাহাদাত হোসেন সাদার ছেলে মাইক্রোবাস চালক রহিম বাদশার কাছে মাইক্রোবাস চালানো শিখতেন সেলিম মিয়া। এজন্য তার বাড়িতে যাওয়া আসা হতো। এক পর্যায়ে বাদশার স্ত্রী আকলিমার সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সেলিম। সেই সম্পর্ককে বিয়েতে রূপ দিতে আকলিমা ও সেলিম মিলে বাদশাকেকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
এরপর ২০১৬ সালের ১০ জুলাই রাত ১০টার দিকে রহিম মাইক্রোবাসে গ্যাস তোলার জন্য বগুড়া গেলে সেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী সেলিম ও আইনুল তার গাড়িতে ওঠে। পরে ভোররাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি-বারোকান্দী দো’সীমানা এলাকায় মাইক্রোবাসের মধ্যেই চালক রহিমকে গলাকেটে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ১১ জুলাই নিহতের বাবা শাহাদাত হোসেন সাদা বাদী হয়ে পাঁচবিবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তদন্তে নেমে এর সাথে জড়িত স্ত্রী আকলিমাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে স্ত্রী আকলিমা জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।
এদিকে একই বছরের ১৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।
সম্পাদক: লিয়াকত আলী
News Bangladesh-a Sister concern of M/S Traders