
দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এক দেশ। অথচ অভাবনীয় এক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে দেশটিতে। শহরের সুপারমার্কেটের তাকগুলো খালি হয়ে গেছে, খাবার নেই রেস্তোরাঁগুলোতেও। দেশটি ইতিমধ্যে পর্বতসম ঋণের চাপে দেউলিয়া হওয়ার পথে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে দেশটির পুরোনো গাড়ি ব্যবসায়ীদের রমরমা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে পুরোনো গাড়ি বাড়ির চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খবর ইয়াহু ফাইন্যান্স।
কয়েক সপ্তাহ ধরে কলম্বোর উপকণ্ঠে গাড়ি বিক্রয়কেন্দ্রগুলোয় ঘুরছেন অ্যান্টনি ফার্নান্দো। তিনি বলেন, ‘মেয়ের জন্য প্রায় এক বছর ধরে সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ি কেনার চেষ্টা করছি। প্রথমে ভেবেছিলাম, দাম কিছুটা হলেও কমবে। তবে এখন দেখছি, অপেক্ষা করে উল্টো ঠকে গেছি, গাড়ির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
পাঁচ বছরের পুরোনো টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজারের জন্য অনলাইনে ৬ কোটি ২৫ লাখ রুপি দাম হাঁকা হয়েছে। আমদানি বন্ধ হওয়ার কারণে গাড়িটির দাম আগের তুলনায় তিন গুণ। এই অর্থ দিয়ে কলম্বোর মধ্যবিত্তদের এলাকায় বাড়ি কিংবা শহরে একটি নতুন বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনা যায়।
শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর সবচেয়ে বড় বিক্রয়কেন্দ্রের মালিক শরৎ ইয়াপা বান্দারা বলেন, ‘গাড়ি ও বাড়ি সাফল্যের প্রতীক, তাই বেশির ভাগ মানুষ এসব কিনতে চায়, যত দামই হোক না কেন।’
বিষয়টি হলো, ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত শ্রীলঙ্কা দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে সব পণ্যের দামই রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে।
পাশাপাশি সরকার খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় ডলার সাশ্রয় করতে অতিপ্রয়োজনীয় নয়—এমন পণ্যের আমদানি হ্রাস করেছে। এতে দেশটিতে গাড়ি আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। দুই বছর ধরে চলা এ নিষেধাজ্ঞায় গাড়ির দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এ অবস্থায় পুরোনো গাড়ি কিনতেও মরিয়া হয়ে উঠেছেন ক্রেতারা। সে জন্য রেকর্ড দাম দিতেও তারা প্রস্তুত।
কলম্বোর রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামে সময় নষ্ট হয়। সে জন্য গাড়ি থাকা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন অনেকে, অনেকটা বাংলাদেশের মতোই। কিন্তু গাড়ির ঘাটতি সৃষ্টি হওয়ায় অনেকেই বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে গাড়ি বিক্রি করছেন। ট্যাক্সিচালকেরাও এই সুযোগে ভাড়া দ্বিগুণ করে দিয়েছেন।
কোভিড-১৯ মহামারি শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিকে আরও পঙ্গু করে দিয়েছে। বিধিনিষেধে মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশটির পর্যটন খাত। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে গেছে প্রবাসী আয়ও। ফলে দেশটি ভয়াবহ ডলার সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় করতে ২০২০ সালের মার্চে সরকার নতুন গাড়িসহ আমদানিতে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে কলম্বোর এই নীতি ডলার সংরক্ষণে খুব বেশি কাজে আসেনি। এতে বরং দেশটিতে পণ্যসংকট তীব্র হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন, শিগগিরই শ্রীলঙ্কা ঋণখেলাপি হয়ে যেতে পারে, যদিও দেশটির সরকার নানা আশার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশটি চীনকে ঋণ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।