
ধর্মীয় কোনো উৎসব নয়, তবু যেন ঈদ, পূজা কিংবা বড় দিনের থেকেও বেশি আনন্দ। ‘হুমগুটি’ নামে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় আড়াইশ বছরেরও বেশি পুরনো খেলা নিয়ে প্রতি বছর পৌষের শেষ দিনে মেতে ওঠে লাখো মানুষ।
মুক্তাগাছা ও ত্রিশালের জমিদারের জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ২৬৩ বছর আগে দুই এলাকার মানুষের মাঝে শুরু হওয়া হুমগুটি খেলা এখন ঐক্যের বন্ধনে পরিণত হয়েছে।
এ যেন রাজ্য দখলের খেলা। লাখো মানুষের ভিড়ে হুমগুটি নামে ২১ কেজি ওজনের পিতলের বলটি দখলে মরিয়া গ্রামবাসী। আড়াইশ বছরের বেশি পুরনো এ খেলায় নেই কোনো রেফারি, নির্দিষ্টসংখ্যক খেলোয়াড় এমনকি নেই বেঁধে দেওয়া সময়ও। শক্তির লড়াইয়ে যারাই গুটি নিজেদের দখলে নিতে পারবে তারাই হবে বিজয়ী।
প্রতি বছর এ খেলাকে ঘিরে গ্রামবাসীর মাঝে চলে উৎসবের আনন্দ। ফুলবাড়িয়ার লক্ষ্মীপুররে বড়ই আটায় তালুক-পরগনার সীমানায় বিভিন্ন জেলা থেকে খেলা দেখতে আসেন হাজারো দর্শনার্থী।
খেলা দেখতে আসা এক দর্শক বলেন, এ খেলা দেখার জন্য ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরে এসেছি। আরেক দর্শক জানান, শুধু এ খেলা দেখতে প্রতি বছর তিনি কুষ্টিয়া থেকে আসেন।
পৌষের শেষ দিন বিকেল ৩টার পর খেলা শুরু হয়ে চলে দীর্ঘ সময়। পিতলের বলটি নিজেদের দখলে রাখতে গিয়ে খেলা অনেক সময় কয়েক দিন পর্যন্ত চলতে থাকে। এদিকে খেলাকে ঘিরে কয়েক গ্রামে গরু জবাই করে রান্না ও পিঠাপুলির আয়োজন করা হয়।
জমিদারি আমলে জমির মীমাংসা করতে আয়োজন করা হয়েছিল এ খেলার। দীর্ঘ আড়াইশ বছরের বেশি সময় ধরে এ খেলা এখন ঐক্যের বন্ধনে পরিণত হয়েছে বলে মনে করে আয়োজক কমিটি।
হুমগুটি পরিষদ পরিচালক এবি ছিদ্দিক বলেন, তালুক ও পরগনা পরদাদের ভেতরে জমিসংক্রান্ত কিছু দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল। তখন রাজাদের সঙ্গে এ দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য এ হুমগুটি খেলার আবিষ্কার হয়।
মুক্তাগাছার রাজা শশীকান্ত আচার্যের সঙ্গে ত্রিশালের জমিদার হেমচন্দ্র রায়ের জমির পরিমাপ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তিতে ২৬২ বছর আগে হুমগুটি খেলা চালু হয়েছিল।