মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মচারী মোস্তফা কামাল শাহীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক »

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় লালিত ক্যাডার হিসেবে পরিচিত জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মোস্তফা কামাল শাহীনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধ অর্থের প্রভাব খাটিয়ে তিনি সংস্থার অভ্যন্তরে অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে অফিস সহকারী পদে কর্মরত থাকলেও মোস্তফা কামাল শাহীন নিজেকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে জানা গেছে। তার আরেকটি পরিচয়, তিনি কুমিল্লা পলিটেকনিক ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি এবং তার পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমিও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সংস্থাটির চেয়ারম্যান, সদস্য, পরিচালক ও উপ-পরিচালকসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তার প্রভাবের বাইরে নন। বরং তার পছন্দ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ বা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। এসব কর্মকর্তার সহযোগিতায় তিনি শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মূল দায়িত্ব স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখা—যেখানে প্লট ও ফ্ল্যাট সংক্রান্ত অধিকাংশ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়—সেটিই শাহীনের প্রভাববলয়ের কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সদস্য (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে প্লট ও ফ্ল্যাট জালিয়াতি, প্রতিবেদন জালিয়াতি, টেন্ডারবাজি এবং সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের ফাইল আটকে রেখে অর্থ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, তার আশ্রয়ে একটি ক্যাডার বাহিনী সক্রিয় রয়েছে, যারা এসব কার্যক্রমে সহায়তা করে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার প্রভাব থাকলেও বর্তমানে তা আরও বহুগুণ বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধ অর্থের প্রভাবে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন।

একাধিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে তিনি পুনরায় তার প্রভাব বিস্তার করছেন। দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও তিনি মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার নির্ধারিত কর্মস্থল মিরপুর, ঢাকা ডিভিশন-১-এ যোগদান না করে সেগুনবাগিচায় অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করছেন এবং প্রশাসনের একটি অংশের সহযোগিতায় সেখানে প্রভাব বিস্তার করছেন। এমনকি ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে শক্তি প্রদর্শনের অভিযোগও এসেছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের এজাহারভুক্ত আসামি। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ বি এম ফয়সাল বাতেন (এনডিসি, পিএসসি)-এর তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সত্যতা উঠে এসেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় একাধিক হত্যা মামলায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

এতসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং পুরস্কৃত করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) তার প্রভাবে সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনের পর জনগণ একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু অভিযোগকারীদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় সেই প্রত্যাশা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তারা মনে করছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

 

 

জাগো সংবাদ/এমএএ

শেয়ার করুন »

Comments are closed.